গাজায় শুধুই লাশের গন্ধ

image_63999_0প্রথম সকাল ডেস্ক: গাজায় গনহত্যা চালাতে ইসরাইল এখন খোদ জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একের পর এক জাতিসংঘের স্থাপনায় আঘাত করে চলছে। আজ রাফাহায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি আশ্রয় কেন্দ্রে মিসাইল ছুড়েছে ইসরাইল। এতে ১০ জন নিহত হয়েছে। এর আগে একাধিক জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব স্কুলকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয়। ৮ জুলাই ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত গাজায় ১৩৬ টি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। যার অনেক গুলো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছিলো এর মধ্যে সরাসরি জাতিসংঘ পরিচালিত ৭টি স্থাপনায় মিসাইল অথবা ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর তালিকা ও জিপিএস অবস্থান আগেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে জানিয়ে দেয়া হয় যাতে এসব স্থাপনায় হামলা না করা হয়। জাতিসংঘ স্কুলে এর আগে হামলায় শিশুদের হত্যার দৃশ্যর বর্ননা দিতে গিয়ে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা কান্নায় ভেংগে পড়েন। ইসরাইল এই কর্মকর্তাকে জাতিসংঘ থেকে বহিস্কারের দাবি জানায়। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১৭৬৬ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইলের ৬৪ জন সৈনিক ও ৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। হামাস যোদ্ধারা ঘোষান দিয়েছে তাদের লক্ষ শুধুমাত্র ইসরাইলি সৈন্য। অপরদিকে ইসরাইল বেসামরিক লোকদের হত্যা করেছে চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ২৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২৫ টি এম্বুলেন্স ধ্বংস করা হয়েছে। গাজা কার্যত এখন ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে লাশের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ৪১ কিলোমিটার লম্বা এবং ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার প্রস্থের এই ভূখন্ডে ১৮ লাখ লোক বাস করে। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৩ তম স্থান গাজা। ২৮ দিনের যুদ্ধে গাজার সব ধরনের স্থাপনা ইসরাইলি বাহিনী ধ্বংস করেছে। বর্বর আক্রমন থেকে স্কুল,হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মসজিদ রক্ষা পায়নি। এ পর্যন্ত ১১০ টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক আল উমরী মসজিদ রয়েছে। গাজার একমাত্র বিদ্যুত কেন্দ্রটি ধ্বংস করার ফলে পুরো এলাকা এখন বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলো বিদ্যুতহীন থাকায় জেনারেটর দিয়ে চিকিতসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবিক বিপর্যয় চরম রুপ দিয়েছে। গাজার সাথে একমাত্র স্থল যোগাযোগের পথ রাফাহ ক্রসিং ইসরাইলের মিত্র মিশরের জেনারেল সিসি সরকার বন্ধ করে দেয়ায় কোনো ত্রানসামগ্রী বা ওষুধ পাঠানো যাচ্ছে না। এখন ইসরাইলি বাহিনী রাফাহ এলাকা ঘিরে রেখেছে। এখানে গত শুক্রবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চাচাতো ভাই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে নিহত হয়। এরপর বেসামরিক লোকদের হত্যা করে প্রতিশোধ নিচ্ছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *