নবীগঞ্জে বিল সংস্কারের নামে লুটপাট

00 (9)এটি,এম,নূরুল ইসলাম,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ): নবীগঞ্জে মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে একটি বিল সংস্কারের নামে নানা প্রতারনা ও লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। জানা যায়,মৎস্য অধিদপ্তর চলতি বছর হাওরাঞ্চলে মৎস্যচাষ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বড় বিল সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ঢাকার মৎস্য ভবন থেকে সরাসরি একটি টেন্ডারও দেয়া হয়। ঢাকার কাউসার আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে ঠিকাদার নিযুক্ত করে কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রায় মাস খানেক আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই ইউনিয়নের রিফাতপুর গ্রাম সংলগ্ন বড় বিল সংস্কারের কাজ করতে আসে। এলাকাবাসীর বারংবার তাগদা দেওয়া সত্বেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তার কাজের নির্ধারীত এলাকা কিংবা কার্যাদেশের কোন কাগজপত্র দেখায়নি। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী জানতে পারেন মৎস্য অধিদপ্তর বড় বিল সংস্কার করছে হাওরাঞ্চলে মৎস্যচাষ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায়। সরেজমিনে গেলে রিফাতপুর গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন,রিফাতপুর মৌজাস্থিত বড় বিলটির দাগ হচ্ছে ১০১১। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই দাগের বেশির ভাগ অংশে কাজ না করে ভিন্ন দাগে নামমাত্র কাজ করে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের অভিযোগ উল্লেখিত বড় বিলের মূল অংশে মাটি স্তুপ করে রেখে ভিট রকম ভূমিতে পরিনত করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গ্রামবাসী জানান প্রকল্পের সিডিউল বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলে ঠিকাদারের লোকজন তাদেরকে মামলা দিয়ে হাজত বাসের হুমকি দিয়েছে। গ্রামের লোকজন জানান,ওই প্রকল্পে মোট ১৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৪৩ টাকা বরাদ্ধের একটি কাগজ সংগ্রহ করেছেন তারা। তাদেও অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মাটির কাজ করে বাকি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলামের অফিসে গিয়ে প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে তার কাছে কোন তথ্য নেই তবে বিল সংস্কারের জন্য উল্লেখিত পরিমানের টাকা বরাদ্ধেও খবর তিনি জানেন। তিনি আরো বলেন প্রকল্পটি সরাসরি ঢাকার মৎস্য ভবন থেকে দেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের কোন নথিও তার দপ্তরে নেই। আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে তাদের বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আনিসুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। প্রকৌশলী আনিসুল ইসলাম মৌলভী বাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় কাজ করলেও তিনি মৌলভী বাজারে অবস্থান করেন। প্রকৌশলী আনিসুল ইসলামের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে প্রকল্পের টেন্ডার কিংবা সিডিউল বিষয়ে তেমন কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও ওউ প্রকল্পে উল্বেলখিত পরিমানের টাকা বরাদ্ধেও কথা স্বীকার করেন। তা ছাড়া তিনি নবীগঞ্জ এসে বিস্তারীত তথ্য জানানোর কথা বলেও আসেননি। তবে তিনি প্রকল্প এলাকা দেখেছেন এবং কাজ সঠিক হয়েছে বলে দাবি করেন। সম্প্রতি প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখতে গেলে রিফাতপুরের সতীশ দাশ (৮৫),আনন্দ দেবনাথ (৮০),বিধু দাশ (৭৫),ক্ষীতিশ সরকার (৭৫),সজল পার (৬৫),যতীময় দাশ (৬৫),নিত্যানন্দ দাশ (৮০),আদর মিয়া (৪৬),ইলিয়াছ মিয়া (৪০) ও হাসান মিয়া (৩৫)সহ অর্ধশতাধিক লোকজন অভিযোগ করেন ওই প্রকল্পের নামে সরকারী লাখ লাখ টাকা লোটপাট করা হয়েছে। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবীগঞ্জকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *