ভবেশের কাছে পৃথিবীটা এখন শুন্য

11144441 (11)প্রথম সকাল ডেস্ক: যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ডুকরে কাঁদছেন ভবেশ বিশ্বাস। তিনি প্রাণে বাঁচলেও তার প্রাণপাখি উড়ে গেছে। মাস্টার্স ফলপ্রার্থী মেয়ে কৃষ্ণা নিহত হওয়ায় গোটা পৃথিবীই তার কাছে এখন শূন্য। শুধু মেয়েই নয়, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান চিরবিদায় নিয়েছে ঘাতক ট্রেনের ধাক্কায়। পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তাই বাকহারা ভবেশ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে তাদের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ভবেশ বিশ্বাসের মাথায় রক্তের দাগ। শরীরে স্যালাইন চলছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ডুকরে ডুকরে কেঁদে ভবেশ জানালেন ‘সব শেষ হয়ে গেছে। আমার মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে কৃষ্ণা, ছোট ভাইয়ের বৌ বর্ণা ও তার ছেলে কৌশিক আর নেই। আমাদের যৌথ পরিবার। পরিবারের তিনজন চলে গেছে না ফেরার দেশে। বাকরুদ্ধ ভবেশের কণ্ঠ কেঁপে কেঁপে যেন বেরিয়ে এলো আর্তনাদ, ‘মেয়েটা (কৃষ্ণা) ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিল। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসেছে। কত কষ্ট করে মেয়েটকে মানুষ করছি। বরযাত্রী হয়ে এসে মেয়ে আমার লাশ হয়ে গেল।’ কথাগুলো বলতে বলতে যেন নুইয়ে পড়লেন তিনি। পরে জানালেন, ছোট ভাই রঞ্জন বিশ্বাসের স্ত্রী বর্ণা ও তার ছেলে কৌশিকও একই বাসের যাত্রী ছিলেন। ট্রেনের ধাক্কায় তারাও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বারোবাজার ট্র্যাজেডিতে এভাবে মেয়েসহ পরিবারের অতি আপন তিনজন চলে যাবে তা ভাবতেই যেন ঘোর অমানিশায় ঢেকে আসছে ভবেশের পৃথিবী।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *