বিয়ের পর স্ত্রীকে আবিষ্কার!

111 (2)প্রথম সকাল ডেস্ক: কুঁড়ি বছর আগে কোনো এক ছুটির দিনে সৈকতে ভাই-বোনের সঙ্গে শিশু নিক হুইলার বেশ কিছু ছবি তুলেছিলেন। তার কয়েকগজ দূরেই বসে ছিলেন অ্যামি মেইডেন। লং শটের ছবিতে বাদ যাননি তিনিও। এরপর কেটে গেছে ২০টি ফাগুন। এতোদিন ছবির পাশে বসে থাকা সেই ছোট্ট অ্যামিকে হয়তো খেয়ালই করেননি নিক। কিংবা খেয়াল করলেও পাত্তা দেননি। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য গত শনিবার ১১ বছরের প্রেমের ইতি টেনে সেই অ্যামিকে বিয়ে করেছেন তিনি। হবু স্ত্রীর সেই সাঁতারের পোশাকের ছবিটি দেখিয়ে চিৎকার করে নিক বলেন, ‘আরে এটাই আমি। ১৯৯৪ সালে এ যুগলের ছবিটি যখন তোলা হয়, তখন তারা শত শত মাইল দূরে থাকতেন। কেউ কাউকে চিনতেন না। এরপর কাকতালীয়ভাবে ১১ বছর পরে কলেজে পড়ার সময় তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে পরিণয়েও রূপ নেয়। কিন্তু কেউ-ই জানতেন না যে, আগে তাদের দু’জনের দেখা হয়েছিল। নিক হুইলার কেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও সমুদ্র তীরবর্তী কর্নওয়েলে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন তার পরিবারের লোকজন। গিয়েছিলেন তার স্ত্রীর পরিবারও। কিন্তু এই যুগলের পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো পরিচয় ছিল না। এমনকি কোনো কথাবার্তাও হয়নি। সেনা বাহিনীতে কর্মরত হুইলার কয়েক বছর আগে কর্নওয়েলে থাকতে শুরু করেন। সেখানে তার কলেজ জীবনের প্রেমিকা অ্যামি মাইডেনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর নিক হুইলার অবকাশে এবং দাদার বাড়িতে তোলা অতীতের ছবিগুলো ইনিয়ে-বিনিয়ে দেখছিলেন স্ত্রীকে নিয়ে। এক পর্যায়ে পুরানো অ্যালবামের পাতা উল্টানোর সময় বালি দিয়ে নির্মিত একটি নৌকায় হুইলার, তার বোন এবং চাচাত বোন মিস মেইডেনের সঙ্গে একটি ছবিতে হঠাৎ চোখ আটকায় তাদের। ওই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে এক কিশোরীর ছবি দেখে নিজেকে চিনে ফেলেন অ্যামিও। তিনি বলেন, এই ছবিটি সৈকতে নিকের দাদা তুলেছিলেন। নিক তার বোন ও দুই কাজিনের সঙ্গে একটি খেলনা বালির তৈরি নৌকায় বসেছিলো। তাদের পেছনে তার পরিবার এবং চাচাও ছিল। ‘তাদের পেছনেই বাবা-মা এবং বোনের সঙ্গে নীল সাঁতারের পোশাকে আমি ছিলাম। বলেন উচ্ছ্বসিত অ্যামি। তিনি বলেন, ‘এটা কীভাবে যে খুবই গুরুত্বপ‍র্ণ করে তুলেছে, তা বোঝাতে পারবো না। যদিও নিকের পরিবার এখানে নেই। দীর্ঘ ২০বছর পর সেই একই জায়গায় কর্নওয়েলের মাউসহোলের গোলভাল চার্চে শনিবার বিয়ে করেছেন এই যুগল। ছবির ওই জায়গাটিতে তারা একসঙ্গে ছবিও তুলেছেন। মধুচন্দ্রিমার জন্য ফ্লোরিডাকে বেছে নিয়েছন এই দম্পতি। সেখানেও তারা স্মৃতিতে রাখার মতো বেশ কিছু ছবি তুলে রাখবেন বলে জানান অ্যামিও মাইডেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *