দেড়লাখ মানুষ হত্যাকারীর মৃত্যু

International-320140730131115প্রথম সকাল ডেস্ক: জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষপকারী দলের মধ্যে বেঁচে ছিলেন শুধু থিওডোর ডাস ভ্যান ক্রিক। তিনি সোমবার মারা গেছেন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে এসে যুক্তরাষ্ট্র জাপানে হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার শুরু হয়। ‘এলোনা গে’ নামক পারমাণবিক বোমাবাহী যুদ্ধবিমানের অন্যতম ক্রু ছিলেন থিওডোর ভ্যান ক্রিক। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যে নিজ আবাসনে ৬৩ বছর বয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ছেলে টম ভ্যান ক্রিক মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ বোমা নিক্ষেপকারী দলের সদস্য ছিলেন থিওডোর ভ্যান ক্রিক। এ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে ৭৮ হাজার জাপানি মারা যান। লিটল বয়ের হামলায় সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যান। উল্লেখ্য, সে সময় হিরোশিমার মোট জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার। তিন দিন পর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামক আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করে। শেষ হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় যুক্তরাষ্ট্র, তা মানবেতিহাসে বিরল। নাগাসাকিতে বোমা ফেলার আগে থিওডোর ভ্যান ক্রিক স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং তার মতামত নিয়ে সেখানে বোমা ফেলা হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে তিনি হিরোশিমায় রাসায়নিক প্রভাবসংক্রান্ত গবেষণায় অংশ নেন। ওই সময়ের পরে থিওডোর ভ্যান ক্রিক ভিবিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি পারমাণবিক বোমা ফেলার পক্ষেই অবস্থান নেন। অবশ্য তিনি এও বলে গেছেন, বোমা কোনো কিছুর স্থায়ী সমাধান করতে পারেন না। তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *