পোষাক বিক্রয়কর্মী বিশ্বের শীর্ষ ধনী

amacio20140730135935প্রথম সকাল ডেস্ক: মন্দায় স্পেনের অর্থনীতির অবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলেও অ্যামাচিও অর্তেগার অবস্থা ঠিক তার উল্টো। সৌভাগ্য যেন তার পিছু ছাড়তেই চাইছে না। সামান্য বেতনের একজন রেল কর্মচারীর সন্তান স্পেনের নাগরিক ওর্তেগা এ বছর ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রকাশিত শীর্ষ ধনীর তালিকায় ৩ নম্বরে স্থান করে নিয়েছে। ওর্তেগার ব্যবসা পোশাকের খুচরো বেচা-বিক্রি। ব্যক্তিগত আয় উপার্জন অর্থাৎ বেতনের দিক দিয়ে বিল গেটসের পরেই তার স্থান। তার ব্যক্তিগত বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কার্লোস স্মিথ ও বিল গেটসের পরই নাম এসেছে স্পেনীয় এই নাগরিকের।  তিনি এই প্রথম শীর্ষ ধনীদের তালিকায় নাম লেখালেন। এর আগে তার নাম উঠলেও শীর্ষ তালিকায় আসতে পারেনি। আসলে কীভাবে তিনি এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন সেটা জানলে অনেকেই চমকে উঠবেন। তবে ওর্তেগা বলেন, পৃথিবীতে তার কাছে অসম্ভব বলে কোনো কিছু নেই।  সেটি তিনি করেই দেখিয়েছেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলের পাঠ চুকিয়ে একটি পোশাকের দোকানে দিনমুজরিতে কাজ নেন ওর্তেগা। মেধা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে মাত্র চার বছরে নিজেই খুলে বসেন একটি দোকান। সমবায় ভিত্তিকেই সংগ্রহ করেন পূঁজি। তবে তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনের পর দিন বছরের পর বছর বেড়েছে তার দোকানের বিক্রি ও সেইসঙ্গে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। ওর্তেগার দোকানে শুধুমাত্র তৈরি পোশাক বা বিভিন্ন ধরণের শার্টই পাওয়া যায়। ওর্তেগার জারা নামের শার্টের ব্র্যান্ডটি এখন  পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ডগুলির অন্যতম। ইউরোপজুড়ে ৬ হাজারের বেশি আউটলেট। গরীব পরিবারে জন্ম নেওয়া ওর্তেগা খুবই সাধারণ জীবন যাপন করেন। ১৯৯৯ সালের আগে সারা দুনিয়া কেন, স্পেনের মানুষই তার নামটি জানত না। একজন বড় ধনী হওয়ার পরও সরকারের কাছে তার কোনো ছবি ছিল না।  স্পেনের কোনো সংবাদপত্রেও এর আগে তার ছবি ছাপা হয়নি। তিনি কোনো পাবলিক আচার অনুষ্ঠানে হাজির হতেন না। তিনি প্রতিদিনই তার কোম্পানির ক্যাফেতে যান এবং সাধারণ কর্মচারিদের সঙ্গে দুপুরের খারাপ গ্রহণ করেন। কর্মচারিরা তার সঙ্গে মজা করেন। মুক্তমনে কথা বলতে পারেন। তিনি বাইরের কোনো কফি শপ বা হোটেলের খাবার গ্রহণ করেন না। কখনো কখনো নিজেই রান্না করে খান বাসাতে। তবে তিনি ২৪ ঘন্টায় দুইবার খাবার গ্রহণ করেন। রাতে কিছুই খান না। জীবনে কখনো টাই পরেননি। নীল ব্লেজার পরেন মানানসইভাবে। স্প্যানিশ ফাইন্যান্সিয়াল প্রেস নামের একটি পত্রিকার সঙ্গে প্রথম বারের মতো কথা বলেন ২০০০ সালে যখন তার কোম্পানি ইনডিটেক্স শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর আগে পত্রিকায় তার কোনো ছবিও প্রকাশিত হয়নি। জারা ব্র্যান্ডটি শুধু স্পেন নয়, সারা ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে আছে।  চেইন শপ। তার টেক্সটাইল মিল আছে। সেখানেই তৈরি করেন কাপড়।  এবং সেই কাপড়ের শার্ট তৈরি করে বিক্রি করেন নিজের দোকানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে  কো-অপারেটিভ ভাবনা। ১৯৭৫ সালে ২ হাজার নারীকে নিয়ে একটি সমবায় গড়ে তোলেন। সবাই মালিক সবাই শ্রমিক-এভাবেই গড়ে উঠে তার জারা সাম্রাজ্য। ওর্তেগা নিজেই তার কোম্পানির একজন বেতনভুক্ত কর্মী। অন্যদের মতই বেতন ভাতা পান তবে কোম্পানিতে তার শেয়ারের পরিমাণ ৬০ শতাংশ। ওর্তেগা বলেন, স্পেনে মন্দা চলছে কিন্তু তার বার্ষিক বিক্রি বেড়েছে ২৩ শতাংশ। আয়ও বেড়েছে বিপুল। তিনি নিজেই বলেন, সৌভাগ্য তার পিছু ছাড়ছে না। তবে বিভিন্ন জনহিতকর কাজে তিনি গোপনে বিপুলভাবে  অনুদান দেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *