কলকাতার রাস্তায় রূপার ছড়াছড়ি

rupa20140730154755প্রথম সকাল ডেস্ক: কলকাতার রাস্তায় রূপার ছড়াছড়ি। খনি নয় তবে খনির মতোই ময়লা আবর্জনা আর ধুলোবালির মধ্যে অসংখ্য মানুষ খুঁজে চলেছেন রূপার বল। রীতিমতো হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে গেছে। একেবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড। এই রূপার খনিতে নেমে পড়া মানুষের কারণে সল্টলেক বুলভার্ডের রোডে জমে যায় ভীষণ যানজট। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে  সল্টলেকে সিটি সেন্টার থেকে মহকুমা হাসপাতালমুখী রাস্তায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নানা আকারের রূপালি রঙের ধাতব বল পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে দু’একজন পথচলতি মানুষ সেগুলি হাতে নিয়ে দেখতে থাকেন। এর পরেই লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে রূপালী বল রাস্তায় ছড়াছড়ির খবর। পথচারী থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল আরোহী এমন কি দামি দামি গাড়ি থামিয়ে চালকের পাশাপাশি আধুনিক পোশাকপড়া লোকজনও নেমে পড়েন রূপার বল কুড়াতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কুড়ানির সংখ্যাটা বেড়ে যায়। শুরু হয় রীতিমতো কাড়াকাড়ি। পুলিশ জানায়, ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হিমসিম খায়  ট্রাফিক পুলিশও। বল কুড়োতে ব্যস্ত এক মাঝবয়সী ব্যক্তি এক জন ট্রাফিক অফিসারকে বলেই দেন, ‘মশাই, আর পাবেন না, আপনিও দুটো বল নিয়ে নিন। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, কলকাতার সল্টলেকের রোডে সকালে কোনো একটি গাড়ি থেকে বেশ কিছু রূপালি রংয়ের  বল রাস্তায় ছড়িয়ে যায়। পথচারীরা ওই বলগুলোকে রূপার বল ভেবেই কুড়াতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি লোকমুখে ছড়িয়ে গেলে রূপার বল খুঁজতে জড়ো হয় অসংখ্য মানুষ। বেধে যায় হুলুস্থুল। করুণাময়ী এলাকায় যাচ্ছিলেন তন্ময় বসাক। রাস্তায় ভিড়ে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। তিনি জানান, গাড়িচালক ভিড়ের কারণ জিজ্ঞাসা করতে সেই যে নেমে গেলেন, ফেরার নাম নেই। তন্ময়বাবু বলেন, ‘নেমে দেখি সকলে রাস্তায় ময়লা ঘাটছেন। সেখানেই চালককে খুঁজে পাই। হাতে গোটা দশ ছোট বল। দামি গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি বল কুড়োচ্ছিলেন। তাঁর কাছে একটা বল চাইতেই জবাব এল, আরে রাখেন, অনেক ধাক্কাধাক্কি করে তিনটে বল জোগাড় করলাম। খানিক আগে এলে আরও ক’টা পেতাম। এই পথে ধারেই সল্টলেকের মহকুমা হাসপাতালে। রোগী রেখে তাদের পরিজনরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন রূপার বল কুড়াতে। হাসপাতালে ঢোকার উপায় নেই। একদিকে মানুষ অন্যদিকে গাড়ির ভিড়। সিটি সেন্টার, সিএ আইল্যান্ড রোড এবং করুনাময়ীর রোডেও জ্যাম লেগে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সল্টলেকের এডিসিপি দেবাশিস ধর বলেন, ‘রূপালি রঙের ধাতব বল রাস্তার ধারে পড়েছিল। তাই নিয়ে এই অবস্থা। যে ভাবে যানজট তৈরি হয়েছিল তাতে যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ওই ধাতব বস্তু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে এই বলগুলো রূপার বলে মনে করছে না পুলিশ। আসলে মানুষ গুপ্তধন আর দামি স্বর্ণ, রূপার প্রতি বেশি আকৃষ্ট থাকে। সে কারণেই এই রূপালী বলগুলো কুড়াতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বলেছেন সল্টলেকের পুলিশ।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *