রোজা রেখে হিন্দুর প্রতিবাদ

00000000000000000000000000000000 (13)প্রথম সকাল ডেস্ক: কলকাতার বাসিন্দা, ৭১ বছর বয়সী এক হিন্দু গত ২১ বছর ধরে রমজান মাসে রোজা রেখে চলেছেন। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে এটা তার ব্যক্তিগত প্রতিবাদ, আর সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষ হিসেবে লজ্জা প্রকাশ। সঞ্জয় মিত্র এমন এক পরিবারের সন্তান, যাদের বাড়িতে ১২৫ বছর ধরে দূর্গাপূজা হয়ে আসছে। রবিবার বিবিসি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মিত্র বলেছেন, ‘আমি বেশিরভাগ দিনই বাড়িতে ইফতার করি। তবে মাঝে মাঝে বাড়ির বাইরে দোকানেও যাই। তিনি বলেন, ‘৫৫ বছর ধরে বাড়ির পাশের একটি দোকানে আসি। এখানের অবস্থা আগের থেকে অনেক পাল্টে গেছে। এখানেই প্রথম গরুর মাংস খেয়েছিলাম। তারপর থেকে তো নিয়মিতই খাই। সঞ্জয় মিত্রের বন্ধু নঈমুদ্দিন বলেছেন, ‘প্রথম যখন শুনি, মিত্র রোজা রাখে, শুনে খুব ভালো লেগেছিল। সে একজন মুসলমানের মত রোজা রাখে। এরকম তো কোনও কথা নেই যে, রোজা শুধু মুসলমানরাই রাখতে পারবে। রোজা সবাই রাখতে পারে।’সঞ্জয় বলেন, ‘আমি কখনও বাড়িতে ফল বা রুটি খেয়ে, কখনও হালিম খেয়ে গত ২১ বছর ধরে ইফতার করে আসছি। তিনি বলেন, ‘অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে প্রতিবাদ হিসেবেই রমজান মাসে রোজা রাখতে শুরু করি আমি।’সঞ্জয় বলেন, ‘বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। তখন আমি দিল্লিতে থাকতাম। উত্তর ভারতে তো ওই ঘটনার পরের দাঙ্গা অনেক বেশি হয়েছিল। সে সময়ে হিন্দু হিসেবে খুব অসহায় লাগছিল। একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষ হয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তখনই ঠিক করি, আমি এককভাবেই প্রতিবাদ করব। নিয়মিত ধর্মাচরণ করেন না মিত্র। তবে মুসলমানদের ধর্মাচরণের অঙ্গ রোজা রাখা নিয়ে তার স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাই গ্রাম বাংলায় চৈত্র মাসের গাজনের সময়ে আরও এক মাস উপোস করেন তিনি। মিত্রের কথায়, ‘কয়েক বছর রোজা রাখার পর আমার স্ত্রী বলেছিল, তুমি মুসলমানদের মতো রোজা রাখ, কিন্তু নিজের ধর্মের জন্য তো কিছু কর না। তখন আমি বলি যে, নমশূদ্র-যারা বেশিরভাগই ভূমিহীন কৃষক, চৈত্র মাসে কোনও খাবার থাকে না বলে গাজনের নামে ভিক্ষা করে সন্ধ্যায় একবারই খায়, আমি সেটা করতে পারি। ভিক্ষাটা পারব না, কিন্তু গাজনের উপোস করি নিয়মিত। আমার উপোস রমজান আর গাজনের। নিয়মিত ধর্মাচরণ করেন না বলেই যেমন মন্দিরে যান না, তেমনই রমজান মাসে পাঁচ বার নামাজও পড়েন না একসময়ের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আর মানবাধিকার কর্মী সঞ্জয় মিত্র। বামপন্থী আন্দোলনে যখন যুক্ত ছিলেন তখন যদিও দাঙ্গার সময় মুসলমান মহল্লায় গিয়ে সবাই মিলে রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠরা যখন বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেছে তার প্রতিবাদটা তিনি একান্তই নিজস্ব ঢঙে করে চলেছেন। কারণ সে ছোটবেলায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গায় মৃত্যুর মুখোমুখী হওয়ার স্মৃতিটাও তার একান্তই নিজের।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *