স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখল

012 (1)প্রথম সকাল ডেস্ক: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখল, টাকা ভাগাভাগিসহ নানা বিষয়ে চলছে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম। এবং অন্য গ্রুপে রয়েছেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান ফিরোজ। সম্প্রতি শামীমকে হত্যা চেষ্টার মামলায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান ফিরোজকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের পর বিষয়টি সামনে আসে। ফিরোজের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছে, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলের পাঁয়তারা চলছে। এদিকে এনামুলের দাবি, কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করেছেন মাত্র। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অসংগতিসহ দুর্নীতির চিত্রগুলো সামনে উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সূত্র জানায়, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য সংখ্যা ১৩ জন। এর মধ্যে হান্নান ফিরোজ এবং তার স্ত্রী ও কন্যাসহ এ বোর্ডে রয়েছে ৯ সদস্য। আর এনামুল হক শামীম, তার স্ত্রী ও বোনসহ তার পরিবারের রয়েছে ৪ সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। একটি ধানমন্ডিতে, অন্যটি সিদ্ধেশ্বরীতে। আর রয়েছে একাধিক শাখা ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ড. হান্নান ফিরোজ। যিনি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের দিতীয় দফায় রিমান্ডে রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, একেএম এনামুল হক শামীম একটি ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হন। বর্তমানে শামীম ছাড়াও তার স্ত্রী তাহমিনা খাতুন, বোন শামীম আরা হক কাকলী ও শামীমের আত্মীয় জাকির হোসেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। শামীম ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত অফিস করলেও অন্যরা একেবারেই অনিয়মিত। কিন্তু প্রতি মাসে তারা নিয়ে নেন কাগজে-কলমে আড়াই লাখ টাকা। এ ছাড়া শামীম ডিসিপ্লিন বোর্ডের সভাপতি। হান্নান ফিরোজের পর শামীমের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে হান্নান ফিরোজ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এর বাইরে তার স্ত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ, ছোট ভাই মাহবুব আলম জাকির, বড় মেয়ে ফারাহনাজ ফিরোজ, ছোট মেয়ে জারাহনাজ ফিরোজ, শ্যালক তালাল রহমান, ছোট ভাই মনিরুজ্জামান মনির, চাচা সেলিম হোসেন চৌধুরী ও ছোট বোন রুমানা হক রিতা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসায় শামীমের আধিপত্য বাড়তে থাকে ক্যাম্পাসে। তিনি রাজনীতি করলেও ক্যাম্পাসে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। সংষ্টিরা জানান, কি কারণে শামীম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট না হলেও স্টামফোর্ড নিয়ে শামীম আর হান্নান ফিরোজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল এক প্রকার প্রকাশ্যে। বিশেষ করে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসটি নিয়ে বছর খানেক আগে হান্নান ফিরোজ ও শামীমের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ ছাড়া সম্প্রতি একজন ট্রাস্টি সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে এ দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। তখন থেকেই এক পক্ষ অপর পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে শামীম ও হান্নান ফিরোজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হান্নান ফিরোজের নাম আসায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ছিল। তদন্ত শেষ হলেই সব কিছু বলা যাবে। উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ইবনে সিনা হাসপাতালের গলিতে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন একে এম এনামুল হক শামীম। শামীম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন তার চাচা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করেই ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব-পুলিশ তদন্তে নামে। গত ৭ই জুলাই র্যা ব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হারুন, মেহেদী, মনির ও জুয়েল নামের চারজনকে গ্রেফতার করে। এর দুই দিন পর ৯ জুলাই নাজিমুল হক মিঠু ও নূরে আলম সিদ্দিকী নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। বর্তমানে তারা রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *