ভালুকায় বনের জমিতে চেয়ারম্যানের ঘর

154545প্রথম সকাল ডেস্ক: দিনদিনই ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বনভূমি বেদখল হয়ে চলেছে। হাজার হাজার একর জমি বনবিভাগের তালিকায় থাকলেও বাস্তবে এর কোন মিল নেই। প্রতিনিয়তই বেহাত হয়ে যাচ্ছে বনের জমি। ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়ন পরিরষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম ১৫৪ দাগে প্রায় দুই’শ কোটি টাকার বনের জমি দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বনের জমিতে ঘর তুলে নিজ মালিকানার সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। বনবিভাগ এ ব্যাপারে নিরব ও রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তারা বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বনভূমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে জানা গেছে, হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ১৫৪ দাগে সরকারি হিসেবে ২শত ৯৫ দশমিক ৩০ একর সম্পত্তি রয়েছে। এ দাগে বনবিভাগের গেজেটভূক্ত ২শত ১ দশমিক ৫০ একর সম্পত্তি রয়েছে। দিনদিনই এসব জমি দখল করে নিচ্ছে ভূমিখেকোরা। গত বুধবার ময়মনসিংহের একদল সাংবাদিক সরজমিনে গিয়ে দেখেন, বনের সংরক্ষিত জমিতে অবৈধভাবে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন এবং নতুন টিনের ঘর নির্মাণ করেছেন চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে আশপাশের লোকজন ও আওয়ামী লীগ নেতারা ছুটে এসে জানান, ১৫৪ দাগ হচ্ছে বনের সংরক্ষিত বনভূমি (রিজার্ভ ফরেষ্ট)। এখানে বনবিভাগ বনায়ন করেছিল। কিন্তু দখলদারেরা গাছ ধবংস করে শত শত একর জমি নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে। ২০ ধারা মূলে ১৫৪ দাগে সকল জমি বনবিভাগের সংরক্ষিত বন হিসেবে রায় ঘোষিত হয়। কিন্তু এ রায়কে উপেক্ষা করে বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ)-এর ভায়রা পরিচয় দিয়ে হবিরবাড়ী বিট অফিসের রেঞ্জার আবুল কাশেম মিয়া এবং অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখাকে না জানিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন। ফলে ইতিমধ্যে প্রায় ২শত কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি হাতছাড়া হয়ে গেছে। আরো ৫শত কোটি টাকার বনভূমি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘এ জমি বনবিভাগের সংরক্ষিত ভূমি হিসেবে জানি। এখন বনবিভাগের যোগসাজশে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম এসব জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেছে। টাকা দিলেই বনে জমি দখল এখন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মইনুদ্দিনকে মোবাইল টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ১৫৪ দাগে বন বিভাগের জমির রয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি মোর্শেদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বন কর্মকর্তাদের কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শাহনেওয়াজ নামে ঢাকার জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১৫ একর সম্পত্তি নিয়েছেন। আমি শাহনেওয়াজের কাছ থেকে দেড় একর জমি খরিদ করেছি। বাকি জমি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বনের জমি দখলের অভিযোগটি সঠিক নয়। উল্লেখ্য যে, হবিরবাড়ীর রেঞ্জার আবুল কাশেম মিয়া বড় কর্মকর্তার আত্মীয় সুবাদে মধুপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে সন্তোষপুর, রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় বনের অনেক জমি বেহাত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। পরবর্তী সময়ে তিনি হবিরবাড়ী রেঞ্জে যোগদান করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান মোর্শেদ ও শিল্পপতিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি বনের জমি বিক্রির নীল নকশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *