ঈদ কার্ড পাঠিয়ে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি

0000 (1)প্রথম সকাল ডেস্ক: ঈদকে সামনে রেখে ঈদকার্ড বিতরণ করে ফুটপাত ও যানবাহন থেকে চাঁদা তুলছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পুরান ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের চাঁদা তুলছেন তারা। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জবি ছাত্রলীগের একজন সহ-সভাপতি জানান, জবি ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলামের বাড়ি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়ি একই জেলায় হওয়ায় কোনো কিছুকে তোয়াক্কা করছেনা জবি সভাপতি। এদিকে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী। এর মধ্যে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করেছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগকর্মী জানান, ১৫ রমজানের পর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ‘ঈদ শুভেচ্ছা’ কার্ড পাঠানো হয়েছে।পরে ঈদের সাত থেকে আট দিন আগে ঈদ ‘বখসিশ’ তুলতে মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা। ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, সদরঘাট, ইসলামপুর, পাটুয়াটুলি, বাংলাবাজার ও রায়সাহেব বাজার এলাকায় চাঁদা তোলে জবি শাখা ছাত্রলীগ। আর এর নেতৃত্ব দেন শাখা সভাপতি শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সেকশন অফিসার জাকির হোসেন। তার বিরুদ্ধে দারুল ইহসান থেকে সার্টিফিকেট কিনে চাকরি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শরিফুলের সঙ্গে জাকির হোসেনকে দেখা যায় চাঁদা তুলতে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পুরান ঢাকার ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি, পাটুয়াটুলির চশমার দোকান, ঘড়ির দোকান, বাংলাবাজারে বই ও প্রকাশনার দোকান থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে তোলা হচ্ছে। শুধু পরিবহন মালিকরাই প্রায় তিন লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পায়নি পুরান ঢাকার ক্লিনিকগুলো। রায় সাহেব বাজার মোড়ের মর্ডান ডায়গনস্টিক সেন্টার, মেডিনোভা হাসপাতাল, ও পাটুয়াটুলীর সুমনা ক্লিনিক থেকে তোলা হচ্ছে মোটা অংঙ্কের চাঁদা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমনা ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের বকসিশের নামে মালিকের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ছাত্রলীগের এক নেতা। টাকা না দিলে হাসপাতাল ভাঙচুরের হুমকিও দেয়া হয়েছে। পরে ২০ হাজার টাকা শরিফুলের ক্যাশিয়ার জাকিরের কাছে দেয়া হয়। এদিকে সদরঘাটের ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটে গত মঙ্গলবার চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. হানিফ ও তথ্য, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মামুন। পরে তাদের পুলিশে দেয় ব্যবসায়ীরা। পরিচয় পেয়ে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এদিকে গত বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন নগর সিদ্দিক প্লাজার একটি দোকানে চাঁদাবাজি করতে গেলে ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম গ্রুপের বহিষ্কৃত কর্মী কানন ও মো. ইব্রাহীমকে মারধর করেন ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই দোকান ও মালিকের ওপর হামলা চালায়। তবে চাঁদাবাজির এ অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি অথবা তার কোনো কর্মী জড়িত নয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *