কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির সফল যেসব প্রক্রিয়া

প্রথম সকাল ডেস্ক: বিভিন্ন রোগ অথবা দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে সেসব মানুষকে প্রচুর সময় অপেক্ষা করতে হয় কোনো দাতার থেকে পাওয়া অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে। কিন্তু কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করা সম্ভব হলে সেই অপেক্ষার সময়কাল অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ কারণে ল্যাবরেটরিতেই নতুন অঙ্গ তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। এখনো পর্যন্ত হৃৎপিণ্ড, যকৃত এবং ফুসফুসের মতো জটিল অঙ্গগুলো তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু অতীতের সাথে তুলনা করলে বোঝা যায় এ ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে। খুব সাধারণ একটি অঙ্গ তৈরির জন্যেও দরকার হয় সুক্ষ্ম গবেষণা, প্রয়োজন হয় জটিল একটি কাঠামো তৈরি করা। সম্প্রতি এই জটিল কাজটি করার জন্য গবেষকেরা তিনটি সফল পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে পেরেছেন। এর মাঝে আছে বায়োপ্রিন্টিং, কোষ পরিষ্কার করে একটি অঙ্গ পুনরায় ব্যবহার এবং ন্যানোফাইবার থেকে অঙ্গ তৈরি। এসব পদ্ধতিতে অঙ্গের প্রাথমিক কাঠামো তৈরির পর এতে গ্রহীতার নিজের কোষ প্রবেশ করানো হয়, তারপর একে রাখা হয় একটি বায়রিয়াক্টরের ভেতর যেখানে প্রতিস্থাপনের আগ পর্যন্ত এই অঙ্গটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। ১) ডিসেলুলারাইজেশন: একটি অঙ্গ থেকে সব কোষ সরিয়ে ফেলে তাকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া হলো ডিসেলুলারাইজেশন। অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে শুকরের হৃৎপিণ্ডের ভাল্ভ পরিষ্কার করে তা মানুষে প্রতিস্থাপন করা হতো। এ থেকে গবেষকেরা চিন্তা করেন, যদি শুধু ভাল্ভ এভাবে ডিসেলুলারাইজেশন করা যায়, তাহলে সম্পূর্ণ একটি অঙ্গ কেন ব্যবহার করা যাবে না? পরবর্তীতে গরু এবং শুকরের সম্পূর্ণ হৃৎপিণ্ডের ওপরে এমন গবেষণা করা হয় এবং দেখা যায় যে সেগুলো সফলভাবে কাজ করছে। পরবর্তীতে একজন মৃত মানুষের ট্রাকিয়া এভাবে ডিসেলুলারাইজ করে আরেকজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং দেখা যায় তাও কাজ করছে।২) থ্রিডি প্রিন্টিং: থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে অনেক অদ্ভুত সব কাজ করা যায়। অঙ্গ তৈরি করাটাও তার মধ্যে পড়ে। তৈরি করা যায় অঙ্গের জন্য একটি কৃত্রিম কাঠামো যার ভেতরে গ্রহীতার কোষ স্থাপন করে অঙ্গ তৈরি করা যায়। এই পদ্ধতির সবচাইতে বড় সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে যে কোন আকার-আকৃতির অঙ্গ তৈরি করা যায় দরকার অনুযায়ী। তবে এ পদ্ধতিটি এখনো ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়নি। শুধুমাত্র ক্ষুদ্র পরিমাণে টিস্যু তৈরি করা হয়েছে তাও গবেষণার দরকারে।৩) ইলেক্ট্রোস্পিনিং: থ্রিডি প্রিন্টিং এর তুলনায় ইলেক্ট্রোস্পিনিং এর প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে। মানুষের চুলের একশত ভাগের একভাগ পুরুত্বের ন্যানোফাইবার ব্যবহার করে দরকার অনুযায়ী একটি অঙ্গের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এর মাধ্যমে। এভাবে তৈরি করা কাঠামো দুই দিনে বায়োরিয়াক্টরে রাখতে হয়, আর ঘূর্ণন করাতে হয় যাতে গ্রহীতার বোনম্যারো কোষ এর ভেতরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে। এই পদ্ধতিতে তৈরি করা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে পাঁচজন মানুষের শরীরে। কৃত্রিম উপায় অঙ্গ তৈরিটা কোনো দাতার শরীর থেকে অঙ্গ গ্রহণের চাইতে কিছু দিক দিয়ে বেশি নিরাপদ। কারণ একজন মানুষের অঙ্গ আরেকজনের শরীরে খুব একটা ভালো কাজ করে না, অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহীতার শরীর এই অঙ্গকে ব্যবহার করতে পারে না। এর জন্য ইমিউনোরিপ্রেসিভ ওষুধ খেতে হয়, তার পরেও অনেক সময়ে কাজ হয় না। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি অঙ্গের ক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকবে না। খুব যত্নের সাথে অঙ্গ তৈরির কাজটি করতে হয়, বেশ কিছু মানুষের শ্রম প্রয়োজন হয় এতে। যদিও এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের অংশ, কিন্তু এখনো পর্যন্ত এটি শিল্পের পর্যায়েই রয়ে গেছে বলা যায়।

This website uses cookies.