সানিয়াকে পাকিস্তানে বধূ বলায় সমালোচনা

0 (4)প্রথম সকাল ডেস্ক: ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে ‘পাকিস্তানের বধূ’ ও ‘বহিরাগত’ বলায় নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের বিজেপি নেতা কে লক্ষ্মণ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী টি চন্দ্র শেখর রাও সানিয়া মির্জাকে তেলেঙ্গানার ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ করার কথা ঘোষণা করেন। সানিয়াকে ‘হায়দারাবাদের গৌরব’ আখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এক কোটি টাকার চেক ও পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা কে লক্ষ্মণ বলেন, “সানিয়া মহারাষ্ট্রের মেয়ে। হায়দরাবাদে বড় হয়েছেন। তিনি এ রাজ্যের বাসিন্দা নন। তাই তেলেঙ্গানার আবেগ বুঝবেন না। লক্ষ্মণ আরো বলেন, “সানিয়া পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে বিয়ে করেছেন। তিনি পাকিস্তানের বধূ। সুতরাং তাকে কখনই হায়দারাবাদের গৌরব কিংবা তেলেঙ্গানার মুখ বলা সঙ্গত হবে না। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, বিজেপি নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সানিয়া মির্জা বলেন, “আমাকে বহিরাগত বলায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করলেও মনেপ্রাণে আমি খাঁটি ভারতীয়। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার পরিবার হায়দরাবাদে আছে। জন্মের সময়ে মা গুরুতর অসুস্থ থাকায় কিছুদিনের জন্য মুম্বাই যেতে বাধ্য হলেও তিন মাস বয়স থেকেই আমি হায়দরাবাদে আছি। এই ধরনের সামান্য ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যে আমি মর্মাহত। কেবল সানিয়াই নন, বিজেপি নেতার ওই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীরা। কংগ্রেস নেতা আবিদ রসুল বলেন, ‘‘সানিয়া ভারতের পক্ষে খেলেন এবং তিনি হায়দরাবাদের মেয়ে। এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। বিষয়টি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে বিজেপি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী বলেন, “সানিয়া মির্জা শুধু হায়দারাবাদের নয়, ভারতেরও গর্ব। তাকে কোনো সাম্প্রদায়িক তকমায় ফেলা যায় না। ওদিকে, বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে মায়াবতী বিজেপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর বলেছেন, সানিয়া মির্জা ভারতের কৃতি ক্রীড়াবিদ। তাকে একটি রাজ্যের দূত হিসেবে মনোনীত করায় কোনো আপত্তি থাকতে পারে না।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *