সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে স্ত্রীর অনশন

protomsokal1 (6)প্রথম সকাল ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সুনামপুর গ্রামে সন্তানের পিতৃ-পরিচয় আদায়ের দাবিতে এক বছরের সন্তান কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গত পাঁচদিন ধরে অনশন করছেন এক অসহায় স্ত্রী। পরিবারের চাপে স্বামী মিশন দাশ প্রথমে বিয়ের কথা স্বীকার করলেও এখন বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ের কথা অস্বীকার করছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেশিসহ ভিকটিমের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সুনামপুর গ্রামের মৃত মুকুন্দ দাশের পুত্র মিশন দাশ সিলেটের একটি সিকিউরিটি কোপানিতে চাকরির সময় পার্শ্ববর্তী ভাড়াটে ২ সন্তানের জননী কুমিল্লা জেলার এক মুসলিম মহিলার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। দেড় বছর আগে উক্ত মহিলার স্বামীর অনুপস্থিতিতে রাতের বেলা মিশনের সঙ্গে মহিলাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা মিশনকে আটক করলে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান। ঘটনা জানাজানির পর ওই মহিলা বাধ্য হয়ে মিশনের কথামত স্বামীকে তালাক দেয়। এরপর কোর্টে নোটারি-পাবলিকের মাধ্যমে মিশন দাশ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়ে তাকে বিয়ে করে সিলেট শিববাড়ী একটি ভাড়াটে বাসায় দু’জন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। প্রথমে মিশনের পরিবার বিয়ের কথা না জানলে পরে জানতে পেরে মিশনকে ওই মহিলার কাছ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। পরিবারের প্ররোচনায় মিশন ভিকটিম নারীর সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে নিরুপায় হয়ে তিনি কন্যা সন্তানকে নিয়ে গত ১৮ জুলাই মিশনের বাড়িতে এসে তার সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। খবর পেয়ে রাজনগর থানা পুলিশসহ রাজনগর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বুধবার ওই নারী তার সন্তানকে নিয়ে মিশনের বসতঘরে অনশন করছেন। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মিশনের পরিবারকে বলে এসেছে মিশনকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত মেয়েটি তার সন্তানকে নিয়ে মিশনের ঘরে থাকবে। এদিকে মিশনের মা ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে জানান, তার ছেলে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার ব্যাপারটি তিনি জানেন না।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *