পুলিশের সামনেই অস্ত্রধারীদের টেন্ডার দখল

protomsokal1 (21)প্রথম সকাল ডেস্ক: সাভারে প্রায় ১২ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র কিনলেও অস্ত্রধারীদের বাধায় জমা দিতে পারেননি ৭ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পুলিশের উপস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্যাডাররা দরপত্র বাক্স দখল করে রাখে। তবে সব রকম নিয়ম মেনে পে-অর্ডার করার পরও দরপত্র জমা দিতে না পারায় ঠিকাদাররা এলজিআরডি সচিব ও পৌরসভার মেয়রকে পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। সূত্র মতে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় সাভার পৌরসভার অধীনে বাজার বাসস্ট্যান্ড-রাজাশান, বাজার বাসস্ট্যান্ড-নামাবাজার ও পাকিজা ড্রাইং-ইমান্দিপুর পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বুধবার ছিল দরপত্র বিক্রির শেষ দিন। সাভার পৌরসভা, ঢাকা জেলা ও পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং সাভার উপজেলা পরিষদ থেকে দরপত্র বিক্রি করা হয়। বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ে ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পে-অর্ডার পূরণ করে সাভার পৌরসভায় মেয়রের কক্ষে দরপত্র জমা দিতে গেলে একদল অস্ত্রধারীরা পুলিশের সামনেই তাদেরকে বাধা দিয়ে ফিরেয়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সাভারের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের ভাই মনির হোসেন সন্ত্রাসীদের নেপথ্যে ছিলেন বলে ঠিকাদাররা দাবি করেছেন। স্টার বিল্ডার্সের মালিক সুমন চন্দ্র ভৌমিক দাবি করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন তাদেরকে ভয় দেখিয়ে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য এলজিআরডি সচিব ও পৌর মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। সুমন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিয়াকত হোসেন বলেন, সন্ত্রাসী বাধা না পেলে দরপত্র কেনা সবাই জমা দিতে পারতেন। তিনি টেন্ডার বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান। বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলের প্রতিষ্ঠান পূবালী এন্টারপ্রাইজও দরপত্র জমা দিতে পারেনি। মোহাম্মদপুর এলাকার আসাদুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান এসএফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড বিথী এন্টারপ্রাইজ দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে শত শত ক্যাডারদের মহড়ায় পৌর ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা ভীতির মধ্যে সময় পার করছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের মোবাইল ফোনে দুপুরে কল করা হলে তার পিএস ডা. শামীম বলেন, স্যার মিটিংয়ে আছেন। পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ ঠিকাদারদের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *