সাত খুনের ঘটনায় জবানবন্দী দিলেন র‌্যাবের ২ সদস্য

4545মোশতাক আহমেদ শাওন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় আদালতে স্বাক্ষীর জবানবন্দী দিয়েছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী র‌্যাব-১১ এর দুইজন সদস্য আবদুস সালাম ও আবদুল সামাদ। মঙ্গলবার সকালে এ দুইজন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, র‌্যাবের দুইজন সদস্য সাত খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। দুইজন মঙ্গলবার আদালতে স্বাক্ষীর জবানবন্দী প্রদান করেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, র‌্যাবের দুইজন ছিলেন সাত হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী। এর ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা দুইজন মঙ্গলবার আদালতে স্বাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন। এতে তারা দুইজন পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এর আগে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় ১৭ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় র‌্যাব-১১ এর চাকুরীচুত্য অধিনায়ক ও অবসরে পাঠানো সেনা বাহিনীর লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ। এর আগে আগে ৪ জুন র‌্যাব-১১ এর উপ অধিনায়ক ও অবসরে পাঠানো মেজর আরিফ হোসেন ও ৫জুন নৌবাহিনীর কমান্ডার এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে খুনের দায় স্বীকার করেন। আদালতের নির্দেশমত পুলিশ গত ১৬ মে দিনগত রাতে র‌্যাবের চাকুরীচুত্য তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন, ১৭ মে এম এম রানাকে গ্রেপ্তার করে। জবানবন্দীতে তিনজনই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেন। উল্লেখ্য ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তায় বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সাতজনকে অপহরণের পর ২৯ এপ্রিল রাতে সে সময়ের জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, র‌্যাব-১১ এর সিইও তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ, ক্রাইম প্রিভেনশনাল স্পেশাল কোম্পানীর কমান্ডার লে. কমান্ডার এমএম রানা, ফতুল্লা থানার ওসি আক্তার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মতিনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাকে র‌্যাব থেকে চাকুরীচুত্য এবং পরে সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীও তাদের অকালীন অবসরে পাঠায়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *