১ ছাগলে লাখপতি রহিমা বেগম

protom sokal (5)প্রথম সকাল ডেস্ক: মাত্র একটি ছাগল পালন করে প্রায় ছয় বছরের ব্যবধানে লাখপতি হলেন রহিমা বেগম। শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দাড়াশকাটি গ্রামের এসকান্দার বেপারীর স্ত্রী রহিমা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) আর্থিক সহযোগিতায় একটি ছাগল পাওয়ার পর শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা। প্রায় ছয় বছরের ব্যবধানে রহিমা এখন স্বাবলম্বী এক নারী। ছাগল পালন শুরুর ছয় মাসের মধ্যে ওই ছাগলটি প্রথমে দুটি বাচ্চা দেয়। সেই শুরু রহিমার ভাগ্য বদলের, এর পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম বাচ্চা দেয়ার তিন বছর পর ২০১২ সালে কয়েকটি ছাগল ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করেন তিনি। এরপর ওই টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা করে দুটি গরুর বাছুর কেনেন। দুই বছরের মধ্যে বাছুর দুটি গাভীতে পরিণত হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে রহিমার দুই গাভী দুটি বচ্চা দেয়। এই গাভী দুটি প্রতিদিন ৯ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। ৬ মাসে রহিমা ৬৪ হাজার ৮০০ টাকার দুধ বিক্রি করেছেন। সব খরচ বাদে তার এখন সঞ্চয় হয়েছে ৫১ হাজার টাকা। জানা গেছে, এক সময় রহিমা চার সন্তানসহ ছয়জনের সংসারে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ অবস্থা ছিল। এখন তাদের অনেকটা সচ্ছলতা এসেছে। তাদের ছোট মেয়ে লিজা অষ্টম শ্রেণীতে এবং ছোট ছেলে রাশেদ চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ছে। অর্থাভাবে দুই ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আর বড় ছেলেটি বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করছে। রহিমার একচালা কুঁড়েঘরটি এখন দোচালা টিনের ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। রহিমার সাফল্যের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তাকে সফল জননী নারী ‘জয়িতা’ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। রহিমা জানান, তার এ সাফল্যের জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি এনজিও ফাউন্ডেশনের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। আর ছাগল বিতরণের সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহ শাম্মী তাকে ‘ছাগল নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করুন’ বলেছিলেন বলে তিনি মনে মনে খুবই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই ইউএনওর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করেছিলেন বলেই তিনি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছেন উল্লেখ করেন রহিমা। রহিমা বেগমের প্রতিবেশী লোকমান তালুকদার বলেন, সাহায্যের একটি ছাগল নিয়ে রহিমা যে সাফল্য পেয়েছে, তা অকল্পনীয়। সে এখন অনেক ভালো আছে। এক সময় তার স্বামী কথায় কথায় তার গায়ে হাত তুলত। আর এখন রহিমার পরামর্শ নিয়ে তার স্বামী সব কাজ করে। ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল মাদবর বলেন, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় আমি আমার ইউনিয়নে দেড় শতাধিক ছাগল দিয়েছি। প্রায় সবাই এতে সফল হলেও রহিমার সাফল্য আকাশচুম্বী। তাই রহিমাকে এখন সবাই ‘ছাগলের লাখপতি’ বলে ডাকে। সূত্র : বাসস

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *