ডেঙ্গু প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে সাফল্য

প্রথম সকাল ডেস্ক: প্রতিষেধক টিকার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা গেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব৷ বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ স¤প্রতি একটি প্রতিষেধকের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে৷ ওষুধ প্রস্তুতকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান সানোফি পাস্ট্যোর এশিয়ায় এই পরীক্ষা চালিয়েছে৷ প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জন শিভার বলেছেন, ডেঙ্গুকে টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা৷ সাধারণত কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা পেটেন্ট এবং বাজারে ছাড়ার আগে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষাকে বলা হয় তৃতীয় মাত্রার পরীক্ষা৷ অবশ্য তারপরও পুরো শঙ্কা কাটেনি। ডেঙ্গুর টিকার এ পরীক্ষায় সানোফি পাস্ট্যোর খুব বেশি সাফল্য অর্জন করেনি৷ তাদের পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দুই থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকার সাফল্য মাত্র ৫৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ৷ সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যানেলিস উইল্ডার-স্মিথ এ বিষয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় ফলাফল অনেক কম হয়েছে৷ আমাদের ধারণা ছিল এ টিকা ৯০ শতাংশের বেশি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হবে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু সাধারণত চার প্রকারের হয়৷ আর পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনটি এই চার প্রকারের ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না৷ ডেঙ্গু টাইপ ৩ এবং ৪ এর ক্ষেত্রে টিকাটির সাফল্য মাত্র ৭৫ শতাংশ৷ অন্যদিকে টাইপ ১ এর ক্ষেত্রে সাফল্য ৫০ শতাংশ আর টাইপ ২ এর ক্ষেত্রে সাফল্য মাত্র ৩৫ শতাংশ৷ অথচ এসব টাইপের যে কোনোটিই মানুষের শরীরে দেখা দিতে পারে৷ তাছাড়া সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ সাফল্যের অর্থ হচ্ছে বাকি ৪৬ শতাংশের ক্ষেত্রে এই টিকা কাজ করবে না৷ উইল্ডার-স্মিথ আরো জানান, বিশ্বের অনেক দেশে টাইপ ২ ডেঙ্গুর সংক্রমণই বেশি হয়৷ তাই সর্বশেষ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল তার কাছে হতাশাজনক৷ উল্লেখ্য, প্রতি বছর পাঁচ লাখের মতো মানুষ মারাত্মক ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়৷এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিও থেকে যায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা বেশি। ফলে এটির কার্যকরী প্রতিষেধক তৈরিতে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা৷ সূত্র: ডি ডব্লিউ

This website uses cookies.