বেচাকেনা বেড়েছে বিপণী বিতানগুলোতে

প্রথম সকাল ডেস্ক: কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ উৎসবের। তাই ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে বিপণী বিতানগুলোতে সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেচা-কেনাও। বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় ব্যাবসায়ীদের মুখে ফুটেছে হাসির রেখা। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল দশটা নাগাদ দোকান খুলতেই ক্রেতারা আসছেন। তাদের পছন্দ মতো পোশাক বাছাই করছেন। পছন্দ হলে দরদামও করছেন বিক্রেতার সঙ্গে। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় হলেই ব্যস প্যাক করে ছুটছেন অন্য দোকানে অন্য কোন প্রয়োজনীয় জিনিসের খোঁজে। ছেলে বুড়ো, নারী-পুরুষের সব বয়সের সমাগম মার্কেটগুলোতে। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় দোকানিদের ব্যাস্ততা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড়ও বাড়তে থাকে। সেই ভিড় কখনো সখনো মানব জোয়াড়ে পরিণত হচ্ছে। এমনচিত্র দেখা গেছে গভীর রাত পর্যন্ত। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের একজন বিক্রেতা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকেই কাস্টমারদের ব্যাপক ভিড় থাকে। দুপুরের দিকে ভিড় একটু বেশিই হয়। এরপর সন্ধ্যার দিকে কাস্টমারের চাপ কম থাকলেও ইফতারের কিছুক্ষণ  পর থেকে আবারও ভিড় বাড়তে থাকে। বেচা কেনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। তিনি জানান, অনেক কাস্টমার তাদের সারাদিনের কাজকর্ম সেরে রাতে স্ব-পরিবারে আসছেন কেনাকাটা করতে। অনেকে আবার রোজা রেখে দিনের বেলার ঝামেলা এড়াতে মার্কেটে আসছেন রাতের দিকে। এজন্য গভীর রাত পর্যন্ত তাদের দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। তবে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় অতিরিক্ত খাটুনীও কষ্টের মনে হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তবে উল্টো সুরও শোনা গেলো কারো কারো কাছে। অনেকেই আাবার আশানুরূপ বেচাকেনা হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গাউছিয়া মার্কেটের সুমাইয়া প্রিন্ট শাড়ির প্রোপাইটর লোকমান খান জানান, কাস্টমার আসছে দলে দলে কিন্তু ঈদের বাজারে বাহারি পণ্যের ভিড়ে ভেজাল আর নকল পণ্যের ছড়াছড়ি মার্কেটগুলোতে। অপেক্ষাকৃত কম দাম হওয়ায় ক্রেতারাও ঝুঁকছেন মানহীন ওইসব পণ্যের দিকে। ক্রেতারা ভাল মন্দ যাচাই করতেও পারছে না। ফলে তাদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না অপেক্ষকৃত মানসম্পন্ন পণ্যের বিক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন বিপণী বিতানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, এখন বড়রা পছন্দের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন মার্কেটগুলোতে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পোশাকের দোকানে ভিড় অপেক্ষাকৃত বেশি। শাড়ি, থ্রি-পিসের দোকানগুলোতে মহিলা আর তরুণীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। নিজের সেরা পছন্দের পোশাক কিনতে ঢু মারছেন এ দোকান থেকে ও দোকানে। মেয়েদের পোশাকের বাজারে দেশি থ্রি-পিস ও শাড়ির পাশাপাশি ভারতীয় এবং পাকিস্তানি থ্রি-পিস, ওড়না, কামিজ, সালোয়ার ও শাড়ির কদর বেশি। ফ্যাশনের ট্রেন্ডে রয়েছে থ্রি-পিস, ফ্লোরটার্চ, লেহেঙ্গা এবং বাহারি নকশার লং ও শর্ট কামিজ। তবে দেশীয় তাঁত, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ির বেচা-বিক্রিও বেশ ভালো। এসব পোশাক এক হাজার থেকে শুরু করে রকম ভেদে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে নকশী পাঞ্জাবি ও ব্রান্ডের শার্টের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন ক্যজুয়াল শার্ট, বিভিন্ন কোয়ালিটির জিন্স প্যান্ট, চুজ পাজামা, ঢোলা পাজামা বা পাঞ্জাবির সাথে মিলিয়ে ট্রাউজারও বিক্রি হচ্ছে বেশ। ইস্টার্ন প্লাস শপিং মলের ব্যাবসায়ী আসাদুল্লা জানান, বর্তমানে কাটা কাপর ও আনস্ট্রীজ থ্রিপিসের বেচাকেনা কিছুটা কমে গেছে। বেড়ে গেছে শাড়ি ও রেডিমেট পোশাকের বিক্রি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কাটা কাপড় কিনে পছন্দমতো বানাতে কয়েক দিন সময় লাগে। আর সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই টেইলার্সগুলো আর নতুন কোনো অর্ডার নিতে চায় না। তাই কাটা কাপড়ের বিক্রি কিছুটা কম। তবে অনেকেই গিফট দেয়ার জন্য বা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখনও কিনছেন কাটা কাপড়। চাহিদা বেড়েছে যাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’র ঈদে নিজেদের জন্য নতুন পোশাক কিনলেও মনে রেখেছেন বাড়ির কাজের লোক বা গরিব-আত্মীয়-স্বজনদের। তাদের জন্যও কিনছেন নতুন পোশাক। আর ইসলাম ধর্মের সম্পদশালীদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বেঁধে দিয়েছেন তা হলো যাকাত। তাই সামর্থবানদের ভিড় বাড়ছে শাড়ি লুঙ্গির দোকানেও। এই মূহূর্তে কমদামি শাড়ি-লুঙ্গির বেচা কেনা বেশ তুঙ্গে আছে বলে জানান মেসার্স জামাল এন্ড ব্রাদার্সের প্রোপাইটর কামাল হোসেন। তিনি বলেন, তুলনামুলক বেচা বিক্রি বেশ ভালো। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে প্রতি থান (চার পিস) লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ ব্যাপারে আতা প্রিন্ট শাড়ির স্বত্ত্বাধিকারী ফজলুল হক জানান, দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকে যাকাত বা গরিব-আত্মীয় স্বজনদের দিতে স্থানীয় প্রিন্ট শাড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি। বর্তমানে তাদের নিজস্ব ডাইংএর প্রিন্ট শাড়ির বিক্রি বেশ ভালো। প্রতিদিন তাদের দুই হাজার পিস শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার দোকানে ২৮০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত দামের শাড়ি রয়েছে। অন্য বছরের ন্যায় রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় এবার রোজার শুরু থেকেই ব্যাবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সেই হিসেবে তারা পণ্যের সমাহারও ঘটিয়েছিলেন অনেক বেশি। কিন্তু রোজার শুরুতেই প্রকৃতির বৈরী আচরণ বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল। বিশেষ করে বৃষ্টি, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, যানজট, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার মন্দাভাব সব কিছু মিলিয়ে রোজার প্রথম দিনগুলোতে ক্রেতা সমাগম ছিল কম। এতে অনেক ব্যাবসায়ীই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বেচাকেনা বাড়ায় হাসির রেখা ফুটেছে তাদের মুখে। তারা আশা করছেন রমজানের শেষ দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে

 

This website uses cookies.