শিগগিরই গ্রেফতার হচ্ছেন না ওসি সালাউদ্দিন

Protom Sokal (7)প্রথম সকাল ডেস্ক: ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে থানা হাজতে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে শিগগিরই গ্রেফতার অথবা ক্লোজ হচ্ছেন না মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন আহমেদ খান। বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র। সোমবার ডিএমপি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডে তার কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা যদি বিচার বিভাগীয় তদন্তে বেরিয়ে আসে তাহলে ওসিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও ডিএমপি সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। আজ তাকে গ্রেফতারের গুজব উঠলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। ডিএমপির দাবি আদালতে ওসির বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, অভিযোগ দাখিল হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বের হয়ে আসলে তখন মামলা রুজু হবে। এর পর তাকে গ্রেফতার বা ক্লোজের প্রশ্ন আসবে। তদন্ত প্রতিবেদনের আগে ওসির বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। ডিএমপি সূত্রটি আরো জানায়, আদালত যদি তাকে গ্রেফতার করে বা পদ থেকে সরিয়ে অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিতেন তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। তখন হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হত। সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি সালাউদ্দিন ও এসআই জাহিদসহ দশজনকে আসামি করে রোববার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী মমতাজ সুলতানা লুসি। মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক শুনানি শেষে বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, নিহত সুজনের স্ত্রী লুসি ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩’ এর ১৫ ধারায় দশজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার দশ আসামি হলেন- মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন, এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আসাদ ও রাশিদুল, পুলিশের সোর্স নাসিম, ফয়সাল, খোকন, পলাশ ও মিথুন। মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামি এসআই জাহিদ ও ওসি সালাউদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য আসামিদের যোগসাজশে সুজনকে ‘বেধড়ক পিটিয়ে’ হত্যা করে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরজিতে সুলতানা লুসি বলেন, ঘটনার দিন রাতে থানায় পৌঁছে এসআই জাহিদ ওয়্যারলেসে স্যার সম্বোধন করে বলে, হারামজাদাকে মারতে মারতে নিয়ে এসেছি। এখন কি করব? ‘অপর প্রান্ত থেকে উত্তর আসে ক্লোজ করে দাও। না হয় ফাইনাল করে দাও। মামলায় বাদীসহ মোট ছয়জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার। গত ১২ই জুলাই রাতে এসআই জাহিদের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর শঙ্করের পশ্চিম জাফরাবাদের বাসা থেকে সুজন, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করে মিরপুর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সুজনকে আলাদা করে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। পরদিন ভোরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকগণ সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পরপরই এসআই জাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। সুজনের লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হলে গত বুধবার এসআই জাহিদ ও নাসিম নামে এক সোর্সকে গ্রেফতার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলাতে ওসি সালাউদ্দিনের নাম বাদ দিয়ে এসআই জাহিদসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর পরই ডিএমপি মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠণ করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন ও মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) তোফাজ্জল হোসেন। সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সাতদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে তদন্ত কমিটি ১৮ জনের স্বাক্ষী নিয়েছে। এর মধ্যে এসআই জাহিদও রয়েছেন। এছাড়াও সুজনের স্ত্রীকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তৃতীয় বার তাকে চিঠি দিয়ে আবারও মিরপুর মডেল থানায় এসে নির্যাতনের ঘটনা লিখিত ভাবে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে কমিটি। এসব কাজ সম্পন্ন হলে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। ওসি সালাউদ্দিনের গ্রেফতারের বিষয় উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান শীর্ষ নিউজকে জানান, ওসি গ্রেফতার হননি। যেহেতু এটা আদালতের নির্দেশে তদান্তধীন রয়েছে, তাই এই বিষয় আর কোনো কথা বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পরই সব কিছু ক্লিয়ার হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *