পৃথিবীতে বসেই মঙ্গলগ্রহে রোবট চালানোর স্বপ্ন

Protom Sokal (10)প্রথম সকাল ডেস্ক: মঙ্গলসহ আরও দূরের কোনো গ্রহে মহাকাশযান পাঠানো আজ আর কোনো বিস্ময়কর ঘটনা নয়। কিন্তু পৃথিবীতে বসেই রোবট চালনার ক্ষমতা এখনো পুরোপুরি রপ্ত হয়নি। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় এমন পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। নেদারল্যান্ডস উপকূলে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসা-র গবেষণা কেন্দ্রে রোবটের হাত নড়াচড়া করছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে এক বিজ্ঞানী মোবাইল টেলিফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাকে চালাচ্ছেন। লক্ষ্য, অদূর ভবিষ্যতে কয়েক লক্ষ কিলোমিটার দূর থেকেও এটা সম্ভব করা। এমন এক যন্ত্রের সাহায্যে ভবিষ্যতে দূরের কোনো গ্রহে পৃথবী থেকেই রোবট চালনা করা যাবে। ২০১৬ সালে মঙ্গলগ্রহ অভিযান শুরু হবে। মানুষের জন্য মঙ্গলগ্রহ তেমন দূরে নয়। এমন যাত্রা রোবটের জন্য কিছুই নয়। কিন্তু তাকে চালনা করতে হবে। তবে মঙ্গল যাত্রা শুরুর আগে কিছু বাধা দূর করতে হবে। ক’দিন আগে আমেরিকানরা এই প্রকল্প ছেড়ে চলে গেছেন। এখন ইউরোপীয়রা রাশিয়ার রসকসমস সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন। ইউক্রেন সংকট শুরু হওয়ার পর বিষয়টি বেশ বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাশিয়ানদের কাছে রকেট ও অর্থ দুটোই রয়েছে। এসটেক-এর ফ্রাংকো ওনগারো বলেন, ‘‘তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউই অপরিহার্য নয়। ধরুন আপনারা দু’জন বেড়াতে যাচ্ছেন। অন্যজন পিছিয়ে এলে সব খরচ আপনার কাঁধে এসে পড়বে। তাই এর একটা আর্থিক দিক রয়েছে। রোবট ল্যাবের পাশেই মঙ্গলগ্রহের ভূ-পৃষ্ঠের মডেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই রোভার-কে নিয়ে পরীক্ষা চলছে। মঙ্গলগ্রহে একবার নামার পর কোনোরকম ভুলত্রুটি হলে চলবে না, যেমনটা এখানে ঘটছে। অভিযানের আগে অনেক ছোট-বড় সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু গবেষকরা আসলে কী চান? এক্সোমার্স প্রকল্পের খর্খে ভাগো বলেন, ‘‘লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রাণের সন্ধান করা। মাটির ঠিক এক-দুই মিটার নীচের অংশই খোঁজ চালানোর আদর্শ জায়গা। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে যে কাজ চলছে, তার আর্থিক ব্যয়ভার কত? চাই নিত্যনতুন হাইটেক যন্ত্রপাতি। যেমন এক মহাকাশ সিমুলেটর। তাতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ভরা হয়েছে, যা পরে মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হবে। বায়ুশূন্য পরিবেশ, বিকিরণ ও তাপমাত্রার বিশাল রদবদল সহ্য করা সেগুলির জন্য কতটা কঠিন? এই প্রকল্পের বর্তমান ব্যয়ভার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১০০ কোটি ইউরো ছুঁয়েছে। খর্খে ভাগো বলেন, ‘‘এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। তাছাড়া এটা এমন কোনো বড় বিনিয়োগ নয়। ইউরোপের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বছরে একটি সিনেমা টিকিট কিনতেই এত অর্থ লাগে। বিশ্বব্রহ্মান্ডে প্রাণের প্রথম চিহ্ন পেতে এমন ধরনের অভিযানের জন্য এটা চাই। ফেরা যাক রোবট হাত পরীক্ষার বিষয়ে। ডার্মস্টাট শহরে বসে ইঞ্জিনিয়ার ৫০০ কিলোমিটার দূরে একটি যন্ত্রাংশ বসাবেন। কিন্তু সিগনাল পৌঁছতে কয়েক সেকেন্ড দেরি হওয়ায় হাত ফসকে গেল। এটা কি ইঞ্জিনিয়ারদের আকাশকুসুম পরিকল্পনা? তবে পরীক্ষা সফল হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রোবটের হাত নড়েছে। এটা সাফল্য বৈকি। একেবারে বিফল হলে সেটা খুবই লজ্জার বিষয় হতো। রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। এর পরের পরীক্ষায় রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে রোবটের হাত চালানো হবে। কারণ সবাই জানে, মঙ্গলগ্রহে তো আর মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই!

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *