নীলফামারী ডোমারে পূজার প্রসাদ খেয়ে ৩১ শিশু অসুস্থ্য

আবু মোতালেব হোসেন, (নীলফামারী): নীলফামারীর ডোমারের বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের নয়ানী বাগডোকরা গ্রামে পূজার প্রসাদ খেয়ে ৩১ শিশুসহ ৪০জন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারী) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩১ শিশুকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে পরে পাঁচ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ওই গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র রায় তার একটি গাভির বাছুর হওয়ার জন্য স্থানীয় কালিমন্দিরে পূজা দেওয়ার মানত করেছিলেন। সম্প্রতি গাভিটির বাছুর হলে গ্রামের সাধুপাড়া কালিমন্দিরে গত শনিবার (১০ ফেব্রয়ারী) সন্ধ্যায় প্রসাদ হিসেবে চিড়া, দই, কলা, গুড় খাওয়ান।

এতে এলাকার শিশুসহ অন্তত ৭০ জন ওই প্রসাদ খেয়ে রাতে পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। গ্রামের প্রদীপ কুমার রায় বলেন, (শনিবার) গ্রামের প্রায় ৩৫ জনের অধিক শিশু এবং ওই সংখ্যক বড় মানুষ প্রসাদ খায়। এরপর রাতে অনেকে পাতলা পায়খানাসহ বমি করতে থাকে। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ্য হলেও রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই প্রসাদ খেয়ে গ্রামের ৩১ জন শিশুসহ অন্তত ৪০ জন অসুস্থ্য হয়ে ডোমার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।  হাসপাতালে অসুস্থ্য শিশু দিলিপ কুমার রায় (১৪) বলেন,‘পূজার প্রসাদ খায়া আইতোত মোর পেটের ব্যাথা শুরু হয়। পেটের ব্যাথাত পাতলা পায়খানা ও বমি হয়। সাকালে মোক হাসপাতালোত আনি ভর্তি করায় মোর বাবা।

ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাসুমা আল-সাদিকা বলেন,‘রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, কালি মন্দিরে প্রসাদ খাওয়ার পর খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, সবার একই রকম সিমটম। কারো কারো জ্বরও দেখা গেছে।

তবে বমি আর পাতলা পায়খানা সবার। নীলফামারী সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মণ রবিবার বিকেলে এলাকা পরিদর্শণ করে বলেন,‘তারা সকলেই পূজার প্রসাদ খেয়ে খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন শিশু বোড়াগাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেও অবস্থার অবনতি হলে পাঁচ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *