সিলেটের ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদে জন্ম-মৃত্যু সনদপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন বাবদ ১১শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। যা সম্পুর্ন প্রতারনামুলক। জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুসারে জন্ম নিবন্ধনের ফি ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

কিন্তু বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদে ফি নেয়া হচ্ছে ১১শ থেকে ৫ হাজার টাকা। জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর বুধবারী বাজার ইউনিয়নের বনগ্রাম নিবাসী সাব্বির আহমদ তার জন্ম নিবন্ধন বাবদ ফি দেন ৫শত টাকা।

কিন্তু দুই দিন আগে একই ইউনিয়নের কালিজুরা নিবাসী মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর কাছ থেকে নিবন্ধন বাবদ ফি নেয়া হয় ১১শ টাকা।মাহমুদুল হাসান চৌধুরী এর প্রতিবাদ করলে ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টির দফরফা করেন!!

তবে একটি সুত্র থেকে জানা যায়, ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদে এভাবে বিভিন্ন খাতে প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। যা অসহায় লোকজন জেনেও তার কোন প্রতিবাদ করতে পারছেনা। অপরদিকে বর্তমান সরকারের নিয়মমাফিক ফি না নিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।

এ ব্যাপারে ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়ন পারিষদের সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, সরকার কর্তৃক ফি ১০০ টাকা রাখা হয়ে থাকে। তাকে ৫০০ থেকে ১১০০ টাকা কোন নিয়মে রাখা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

এক পর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামালের কথা বলেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যান যে কোন নাগরিকের জন্ম-মৃত্যু সনদপত্র নিবন্ধনের ফি রদবদল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ১১০০ টাকার জায়গায় তিনি নাকি তার ইচ্ছেমতো ফি ধার্য্য করতে পারেন??

সুত্র থেকে জানা যায় বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব নেয়ার পর স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় জমা দেওয়া সহ বিভিন্ন কাজে জন্ম নিবন্ধনের হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিজন জন্ম নিবন্ধনে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্রমতে ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও টাকার রশিদ দেওয়া হয় ১০০ অথবা ৫০০ টাকার।

৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামালের কারনে কেউই মুখ খুলে কিছু বলতে পারেনা। তার বিরুদ্ধে কিছূ বললে তিনি বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। নতুবা তার লোকজন দিয়ে মারধর করান। তবে এসব বিষয়ের প্রতিকার চান ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়নবাসী।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *