নৌ-ডাকাতি রোধে টাওয়ারে উঠে চর পাহারা

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা প্লাবিত কাপাসিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় নৌ-ডাকাতি রোধে টাওয়ারে উঠে চর পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসি।

টাওয়ারের মধ্যে স্থাপন করা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন শক্তিশালী সার্চ লাইটের মাধ্যমে রাতে চরাঞ্চল পাহারা দিয়ে আসছেন এলাকাবাসি। বানভাসিদের যান-মালসহ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগীর নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই টাওয়ার।

গত বছর বন্যার সময় প্রয়াত সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের আটটি পয়েন্টে ডাকাতি রোধে নিজ অর্থায়নে টাওয়ার নির্মাণ করে দেন। প্রতিটি টাওয়ারের উচ্চতা ৬০ হতে ৭০ ফিট। কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয় এই টাওয়ার। প্রতিটি টাওয়ারে একটি করে সার্চ লাইট বসানো রয়েছে।

অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার প্যানের মাধ্যমে ওই সার্চ লাইট ব্যবহার করা হয়। কাপাসিয়া ইউনিয়নের কাজিয়ার চরে রেজাউল ইসলাম জানান- টাওয়ারে উঠে সার্চ লাইটের মাধ্যমে চর পাহারা দেয়ার পর থেকে পূর্বে তুলনায় নৌ-ডাকাতি অনেকটা কমে গেছে। এতে করে চরাঞ্চলবাসির মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন- বন্যা এলে চরে বিভিন্ন এলাকার উঁচু জায়গায় গরু, ছাগল, ভেড়া নিয়ে এসে রাখা হতো। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নৌ-ডাকাতরা ওই সব গরু, ছাগল চুরি করে নিয়ে যেতে। কিন্তু টাওয়ার নির্মাণ করার পর থেকে তা হচ্ছে না। লাল চামার নতুন গ্রাম এলাকার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান- স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে চরাঞ্চলবাসি পর্যাক্রমে রাত জেগে টাওয়ারে উঠে চর পাহারা দিয়ে থাকেন।

পাঁচ হতে ছয়জনের করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা একদিন পরপর সারা ধরে চর পাহারা দেন। সার্চ লাইটের মাধ্যমে যদি নৌ-ডাকাত দলের খোঁজ মেলে তাহলে সর্তক সংকেত হিসেবে বাঁশি বাজানো হয়। বাঁশির শব্দ শুনে চরাঞ্চলবাসি ঘুম জেগে উঠে এসে টাওয়ার নিচে একত্রি হয়ে লাঠি সোডা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাত দলকে তাড়া করে।

কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন- আমার ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টের টাওয়ারে সার্চ লাইট সচল রয়েছে। বন্যার সময় টাওয়ারে উঠে চর পাহারা দিলে নৌ-ডাকাতির সম্ভবনা অনেকটাই কমে যাবে বলে আমার বিশ^াস। সে কারণে তিস্তা নদী বেষ্টিত অন্যান্য ইউনিয়নের চরগুলোতে টাওয়ার নির্মাণ করে সার্চ লাইটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

থানার অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান জানান- প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম মহোদয় চরাঞ্চলবাসির জন্য নৌ-ডাকাতি রোধে যে টাওয়ার নির্মাণ করে দিয়েছেন সেটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এগুলো সচল রেখে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম গোলাম কিবরিয়া জানান- নৌ-ডাকাতি রোধে চরাঞ্চলবাসির জন্য এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সাথে এব্যাপারে পরামর্শ করে চরাঞ্চলে টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *