শৈলকুপায় ক্লিনিকের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কুমার নদে : ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুকিতে মানুষ এলাকাবাসী

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ক্লিনিকের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কুমার নদে,ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুকিতে মানুষ এলাকাবাসী বলে জোর অভিযোগ উঠেছে। শৈলকুপা উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদের পানি প্রতিনিয়ত দুষিত করা হচ্ছে।

শহরের ৬টি কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষাক্ত বস্তা বস্তা বর্জ্য প্রতিনিয়ত কুমার নদে ফেলা হচ্ছে। এতে ক্যান্সার, হেপাটাইটিস বি, টিটিনাস সহ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাবাসী ও নদীপাড়ের মানুষজন।

বিশেষ করে যারা ঘর-গৃহস্থালীর কাজে নদীর উপর নিভর্রশীল, গোসল সহ নিত্য কাজ সারতে নদীর উপর ভরসা করতে হয় তারা নিজেদের অজান্তেই এসব স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে থাকছে। সরেজমিন ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শৈলকুপা শহরে ৬টি ক্লিনিক রয়েছে, এসবের সবগুলোই কবিরপুরে।

এসব ক্লিনিক, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষাক্ত বর্জ্য বিশেষ করে, অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ব্লেড, সূচ, সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলা-বস্ত্র, শরীরের অপসারিত অংশ, অব্যবহৃত ঔষধ, ময়লা-আবর্জনা সহ নানা চিকিৎসায় ব্যবহৃত নানা সামগ্রী প্রতিনিয়ত নির্বিগ্নে কুমার নদে ফেলা হচ্ছে।

এসব বিষাক্ত বর্জ্য শহরের কুমার নদের পুরাতন ব্রীজ ও আশপাশের এলাকা থেকেও কুমার নদের ভিতরে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে ক্লিনিকগুলোর আয়া-কর্মচারীরা এগুলো বস্তায় করে বয়ে নিয়ে এসে এ নদীতে ফেলে দেয়। ফলে নদীর নীচে স্তুপাকারে জমে থাকতে দেখা গেছে এসব বর্জ্য। এছাড়া ¯্রতে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে এক এলাকা থেকে নদীর অন্য এলাকাতে।

পানিতে এসব বিষাক্ত সামগ্রী ফেলায় দুষিত হচ্ছে নদীর পানি। আর নদী পাড়ের মানুষ তাদের ঘর-গৃহস্থালী, গোসল সহ নিত্যকাজে পানির উপর নির্ভর হওয়ায় নিজেদের অজান্তেই স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকছে। পানি দুষিত হওয়ায় মাছ সহ নানা জলজ প্রাণীও আক্তান্ত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার খন্দকার বাবর জানান, ক্লিনিকগুলোর পরিত্যক্ত বর্জ্যগুলি মানবদেহের জন্য খুবই বিষাক্ত ও ক্ষতিকর।

  এসব বর্জ্য খোলা স্থান, নদী বা পাবলিক প্লেসগুলোতে ফেললে এর ব্যবহৃত ব্লেড, সূচ, সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলা-বস্ত্র, শরীরের অপসারিত অংশ, অব্যবহৃত ঔষধ মারাত্মক স্বাস্থ্যহানী ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার, হেপাটাইটিস বি, টিটিনাস, চর্মরোগ সহ জটিল সব রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। এ ব্যাপারে ক্লিনিকগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলে তা পুড়িয়ে ফেলতে অনেকবার আহবান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

কুমার নদের ভাটি অঞ্চল বিজুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী লক্ষী কান্ত গড়াই জানান, ক্লিনিকের বর্জ্য বিভিন্ন সময়ে তাদের ঘাট এলাকায় দেখা যায়। গোসল করতে গিয়ে সূচ, সিরিঞ্জ, ব্লেড এগুলো ক্ষতের সৃষ্টি করছে গোসল করতে আসা শিশু-কিশোরদের। কবিরপুর পুরাতন ব্রিজের জৈনিক চা দোকানী অভিযোগ করেন, প্রতিদিন ক্লিনিকগুলোর আয়া-কর্মচারীরা বস্তায় করে এসব নদীতে ফেলে যায়।

অনুরুপ অভিযোগ করেন কবিরপুর, ঝাউদিয়া, ফাজিলপুর সহ নদী এলাকার মানুষজন। এব্যাপারে শৈলকুপার অন্যতম প্রধান “খোন্দকার প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের” মালিক ফজলুর রহমান মাস্টার বলেন, আমাদের উপর থেকে নির্দেশ আছে এসব ক্লিনিক বর্জ্য কুম কেটে সেখানে ফেলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, আমরা চেষ্টা করি পুড়িয়ে ফেলতে তবে অন্য অনেকেই নদীতে এসব বর্জ্য ফেলে, অসাবধানবসত কখনো তাদের ক্লিনিকের বর্জ্যও ফেলা হতে পারে বলে স্বীকার করছেন। তবে তার অভিযোগ শুধু ক্লিনিক নয়, হাট-বাজার ও পৌরসভার সব বর্জ্যও নদীতে ফেলা হয়। এসব বন্ধ করতে হলে সবাই কে নিয়ে বসে জোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *