কোটি টাকার প্রকল্পে ছয়-নয় : নিম্নমানের চারা বিতরণ

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক:  পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রতান্ত এলাকায় মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের চাষীদের চারা বিতরণের অনিয়ম আর “কোটি টাকার প্রকল্পের লুটপাটের হিরিক পড়েছে।

৩৬ কোটি টাকার ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে বিনা টেন্ডার ও নোটিশে মাধ্যমে গোপনে চলছে সকল কর্মকান্ড। অভিযোগ উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যাক্তিরা এ প্রকল্পের অনিয়মের সাথে জড়িত।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থ সমাজিক উন্নয়নে প্রকল্প নিলেও তাতে চলে লোভ-লালসার দৃষ্টি। ফলে পিচিয়ে রয়েছে পাহাড়ের উন্নয়ন।  অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের মাধ্যমে নোটিশ দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রকল্পের চারা সর্বরাহ ও বিতরণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি এই প্রকল্পে।

বিনা টেন্ডারে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে পঠিয়ার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপরেশনের যুগ্ম পরিচালক মো: ইদ্রিস খাগড়াছড়িতে এ চারা সর্বরাহ করার কাজ নেন। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাগড়াছড়িতে ৮শ ৫০ জনের মধ্যে চারা বিতরণের কথা রয়েছে। তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ৪৫ চাষীকে প্রতিজনকে ৫০টি আম,৪০টি লিচু ও ৫০টি লেবু চারা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মিশ্র ফলজ চাষ প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মদন চাকমা।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় চারা সর্বরাহের জন্য আম ৬৫ টাকা,লিচু ৬০ টাকা,লেবু ১০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান পঠিয়ার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপরেশনের (বিএনডিসি) যুগ্ম পরিচালক মো: ইদ্রিস। মানসম্মত চারা সর্বরাহের নিয়ম থাকলেও স্থানীয় নার্সারি থেকে নির্ধারিত মুল্যের অর্ধেরও কম মূল্যে সর্বরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্মমানের চারা সংগ্রহ করে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

ফলে চাষের বাগানের খারাপ মানের ফল উৎপাদনসহ চাষীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।  এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, চারা বিতরণের নামে বাঙ্গালীদের বঞ্চিত করে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের লোকদের এক তরফা ভাবে এ সকল নি¤œমানের চারা বিতরণের নামে বরাদ্ধ লোপট করা হয়েছে। ফলে ক্ষুব্দ স্থানীয় বাঙ্গালীরাও।

স্থায়ীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়ম অনুসারে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ পরিচালনা হলে তা নিয়ম অনুযায়ী হতো এবং চারা বিতরণেও অনিয়ম হতো না। পঠিয়ার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপরেশনের যুগ্ম পরিচালক মো: ইদ্রিস অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পাহাড়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় নার্সারি থেকে ১০/১৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতীর চারা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমান জানতে চাইলে তিনি ৮৫ লক্ষ টাকার মত বলে জানান।  তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম মিশ্র ফলজ চাষ প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মদন চাকমা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে চারা বিতরণের বিষয়ে সাফাই গেয়ে বলেন, এই প্রকল্পের প্রস্তাবণায় “সরকারী যে কোন প্রতিষ্ঠান চারা সর্বরাহ করতে পারবে এবং এটি একনেকে বিষয়টি অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে বলেন চারা বিতরণ সঠিক ভাবে হচ্ছে।

স্থানীয় ভাবে চারা সংগ্রহ ও অনিয়মের বিষয় ও মোট কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে এই প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *