স্ত্রীসহ এসআই’র `আত্মহত্যা` : গুলির শব্দ পাননি প্রতিবেশীরা

প্রথম সকাল ডটকম: রাজধানীর রূপনগরে দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পাকে গুলির পর নিজে আত্মহত্যা করেন বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার। রূপনগর থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ।

‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে একটি অপমৃত্যুর মামলাও করবে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও সরকারি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ওই ভবনের একাধিক বাসিন্দা গুলির কোনো শব্দ পাননি বলে জানান।

এর আগে শনিবার রাতে রূপনগর আবাসিক এলাকার ২২ নম্বর রোডের ৩২ নম্বর ভাড়া বাসার ৬ষ্ঠ তলা থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে রূপনগর থানা পুলিশ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুই রাউন্ড গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের পর জানান ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। পুলিশ বলছে, অজ্ঞাত এক লোক থানায় ফোন করে গুলির শব্দ শুনতে পায় বলে জানায়। তখন ঘটনাস্থল থেকে বাসার দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে ঢামেকে পাঠানো হয়। তবে ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা গুলির কোনো শব্দ পায়নি, এমনকি ভবন থেকে কেউ পুলিশকে ফোনও করেনি বলে জানিয়েছে।

ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা ও বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাইয়েবা আক্তার বলেন, আমরা কোনো গুলির শব্দও পাইনি, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। পুলিশকে খবরও দেইনি, পুলিশই প্রথম এসে এ কথা বলে। ভবনের সপ্তম তলায় চিলেকোঠার বাসিন্দা ফাহিমা বলেন, আসরের নামাজের পর তিনি ভাত খাচ্ছিলেন। তখন পুলিশের দরজা ভাঙার শব্দ শুনতে পান।

এর আগে কোনো গুলি বা চিৎকারের শব্দ কিছুই শুনতে পাননি তিনি। রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম বলেন, গুলির শব্দ ও চেঁচামেচি শুনেছে বলেই সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন দেয়। আশপাশের মানুষ ‘কোনো শব্দ শুনিনি’ এ কথা বলে হয়তো তথ্য লুকাতে চাচ্ছে। ফোন দেয়া ব্যক্তিটি কে ছিল প্রয়োজনে যাচাই করে দেখা হবে।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ১২ বছরের সংসার জীবনে দুই সন্তানের জনক এসআই সাত্তার। তবে কয়েক বছর ধরে স্ত্রীর খালাতো বোন (খালাতো শ্যালিকা) শম্পা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরখানেক আগে তাদের বিয়ে হয়। এ বিয়েতে পরিবার ও দুই স্ত্রীর পরিবারের কারও মত ছিল না। কেউ বিষয়টি মেনে নেয়নি।

শ্যালিকাকে বিয়ে করায় পারিবারিক অশান্তি নেমে আসে। যার জের ধরে দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পাকে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলির পর আত্মহত্যা করেন এসআই সাত্তার। এসআই গত ছয় মাস আগে স্ত্রীসহ রূপনগরের বাসায় ওঠেন। তার আরেক স্ত্রী আছে জানতেন না বলে জানান বাড়ির মালিকের স্ত্রী তাইয়েবা আক্তার।

এ বিষয়ে এসআই সাত্তারের প্রথম স্ত্রী ববিতা খাতুন বলেন, এক বছর ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকত সাত্তার। তবে তাদের মধ্যে কি ঝামেলা ছিল তা জানা নেই। ববিতা তার দুই সন্তান সাকিব আল হাসান (১০) ও সাদিক বিন সাত্তারকে (৩) নিয়ে মিরপুরের ইস্টার্স হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে থাকেন। সাত্তারের বড় ভাই বাবলু রহমান বলেন, কেন ভাই আত্মহত্যা করেছে তা জানি না।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *